দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আলাস্কা শীর্ষ বৈঠকে হওয়া সমঝোতা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তুলেছে রাশিয়া। দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ওয়াশিংটনের প্রতি মস্কোর ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের ইঙ্গিত মিলেছে।
গত তিন দিনের মধ্যে রাশিয়ার তিনজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, আলাস্কায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র তা বাস্তবায়ন করেনি। তবে তারা কোনো নির্দিষ্ট বিষয় উল্লেখ করেননি।
রাশিয়ার এই অভিযোগ এমন এক সময়ে এলো, যখন ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। গত সপ্তাহে মস্কোর একটি তেল শোধনাগারেও দুটি হামলা হয়েছে। একই সময়ে সাত শিল্পোন্নত দেশের জোটের শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেন, যুদ্ধে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিজেদের পক্ষে ঘুরিয়ে আনছে কিয়েভ।
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প গত বছর থেকে উদ্যোগ নেওয়ার পর রাশিয়া বারবার তার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছে। আলাস্কা বৈঠকের পর মস্কো প্রায়ই ‘অ্যাঙ্কোরেজের চেতনা’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে রাশিয়া বোঝাতে চেয়েছে যে ট্রাম্প ইউক্রেনের পুরো দনবাস অঞ্চল রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে ছেড়ে দেওয়ার দাবির প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন, বিনিময়ে অন্য ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা ছিল।
তবে যুক্তরাষ্ট্র কখনো স্পষ্ট করে জানায়নি, ওই বৈঠকে ঠিক কী বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল। পশ্চিমা মিত্র দেশগুলোর নেতারাও মনে করেননি যে পুতিনকে বিশেষ সম্মান দেখিয়ে ট্রাম্প উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্য অর্জন করেছেন।
বৈঠকের এক মাস পর ট্রাম্প আবারও অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ইউক্রেন রাশিয়ার দখল করা সব অঞ্চল পুনরুদ্ধার করতে পারে। এরপর থেকেই রাশিয়ার হতাশা বাড়তে থাকে।
রোববার ক্রেমলিনের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ বলেন, সমঝোতা বাস্তবায়নের বিষয়ে এক পক্ষ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলেও অন্য পক্ষ তা পালন করতে সক্ষম হয়নি।
মঙ্গলবার রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ অভিযোগ করেন, আলাস্কা বৈঠক হয়তো ইউক্রেনকে পুনরায় অস্ত্রশস্ত্রে শক্তিশালী করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৌশল ছিল।
একই দিনে তার উপমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আলাস্কায় হওয়া মৌলিক সমঝোতা থেকে সরে এসেছে। তবে তিনি জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংলাপ অব্যাহত থাকবে।
রিয়াবকভ আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখন ক্রমশ ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মতো ইউরোপীয় মিত্রদের কঠোর রাশিয়াবিরোধী নীতির কাছাকাছি চলে যাচ্ছে।
অস্ট্রিয়ার বিশ্লেষক ও দীর্ঘদিনের পুতিন পর্যবেক্ষক গেরহার্ড ম্যানগটের মতে, রাশিয়ার এই অবস্থান পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে দেশটির অর্থনীতি ও সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ। ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা রয়েছে বলেও মস্কো বিশ্বাস করে।
ম্যানগট বলেন, রুশ জনগণকে দেখানোর জন্য পুতিনকে দৃশ্যমান কোনো জবাব দিতে হবে এবং প্রমাণ করতে হবে যে তার হাতে এখনো বিকল্প রয়েছে। তার মতে, এর ফলে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে এবং ট্রাম্পকে আবারও নিজেদের অবস্থানের দিকে টানার চেষ্টা করবে রাশিয়া।
ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলার প্রসঙ্গে মঙ্গলবার পুতিন বলেন, ‘পুরো পশ্চিমা বিশ্ব’ কিয়েভের হয়ে কাজ করছে।
আন্তর্জাতিক সংকট গোষ্ঠীর বিশ্লেষক ওলেগ ইগনাতভের মতে, ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার উদ্যোগ কার্যত থেমে গেছে। এতে হতাশ হয়েছে রাশিয়া।
রাশিয়া বরাবরই ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যস্থতার সম্ভাবনা নাকচ করে এসেছে। কারণ এসব দেশ ইউক্রেনকে বড় ধরনের ছাড় দিতে উৎসাহিত করবে—এমন কোনো ইঙ্গিত নেই।
ইগনাতভের মতে, রাশিয়া চায় যুক্তরাষ্ট্র আবারও সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগে ফিরুক, যাতে মস্কো নিজের শর্তে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারে।
তিনি বলেন, ‘কোনো কাঠামোবদ্ধ কূটনৈতিক প্রক্রিয়া নেই, কোনো চুক্তির খসড়াও নেই। বাস্তবে কিছুই নেই। এ কারণেই রাশিয়া খুবই হতাশ এবং তারা চায় যুক্তরাষ্ট্র আবারও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হোক।’
/অ